লালনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল পৃথক ০৫টি অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় কক্সমেটিক্স, শাড়ী ও ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০৮:১৫ ঘটিকায় রামখানা বিওপির আওতাধীন ফেরেস্তার মোড় (থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম), একই তারিখ রাত ০৩:১০ ঘটিকায় রামখানা বিওপির আওতাধীন হলার মোড় (থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম), একই তারিখ সকাল ০৮:৩০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন ভেন্নিতলা (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম), একই তারিখ রাত ০৩:৪৫ মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারভাতি (থানা-হাতিবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) এবং ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকাল ১৫:২৫ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন ফেলানী মোড় (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে ০৫টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় কসমেটিক্স ফেসওয়াস ৯৭০পিছ, সর্ন কাতান শাড়ী ৮৫ পিছ, জামদানী শাড়ী ০৩ পিছ, সিল্কের শাড়ী ৫ পিছ, লেহেঙ্গা ২ পিছ, প্যান্টের কাপড় ১০ পিছ এবং ইস্কাফ সিরাপ ৯৯ বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় কক্সমেটিক্স ৯৭০ পিছ, যার সিজার মূল্য ১,৯৮,৮০০/-, সর্ন কাতান শাড়ী ৮৫ পিছ, যার সিজার মূল্য ৮,৫০,০০০/- টাকা, জামদানী শাড়ী ০৩ পিছ যার সিজার মূল্য ৩০.০০০/-, সিল্কের শাড়ী ৫ পিছ, যার সিজার মূল্য ২৫,০০০, লেহেঙ্গা ২ পিছ, যার সিজার মূল্য ১০,০০০/-, প্যান্টের কাপড় ১০ পিছ, যার সিজার মূল্য ৩০,০০০/- এবং ইস্কাফ সিরাপ ৯৯ বোতল, যার সিজার মূল্য ৩৯,৬০০/- টাকাসহ সর্বমোট ১১,৮৩,৪০০/- টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, স্টাফ রিপোর্টার 


















