লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ০৪টি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাফসহ ০১ জন আটক, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০১২০ মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারবাতি (থানা-হাতিবান্ধা, জেলাঃ লালমনিরহাট), ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৭৩০ মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন বিদ্যাবাগিস এবং ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ০৪০০ মিনিটে মোগলহাট বিওপির আওতাধীন কুমারটারী নামক স্থানে টহল পরিচালনাকালীন চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১৪৬ বোতল, নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ১০০ বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ৫৮ পিছ এবং ইস্কাফ সিরাপ ৪৫ বোতল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০৩২০ মিনিটে রামখানা বিওপির আওতাধীন ত্রিমহনী (থানা-নাগেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে বিজিবি’র টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি টহলদল চ্যালেঞ্জ করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে: নাম- মোঃ হাসানুজ্জামান (৩৮), পিতা-মোঃ শামসুল হক, গ্রাম-দক্ষিণ শিংঝাড়, পোঃ জয়মনিরহাট, থানা-ভূরু½vমারী জেলা-কুড়িগ্রামকে ভারতীয় ইস্কাফ ১৩ বোতলসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ২০৪ বোতল, যার সিজার মূল্য ৮১,৬০০/-টাকা, ফেয়ারডিল সিরাপ ১০০ বোতল, যার সিজার মূল্য ৪০,০০০/- এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ৫৮ পিছ, যার সিজার মূল্য ১৭,৪০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ১,৩৯,০০০/- (এক লক্ষ উনচল্লিশ হাজার টাকা)। উল্লেখিত ঘটনায় আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে ভূরু½vমারী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক মাদকদ্রব্যসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, স্টাফ রিপোর্টার 



















