১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মহম্মদপুরে ভিজিএফের চালে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ৪০% রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালে ৪০ শতাংশ রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ উঠেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেট।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, এভাবেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জন্য  ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।  বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৪৩ হাজার ৫৬৩ জন হতদরিদ্র, গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ৪৩৫ দশমিক ৩৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তালিকা করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে ভিজিএফ কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা অনেকটাই গোপনে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রকাশ্যেই ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠছে। এতে করে প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা বিএনপির নেতাদের চাপের মুখে প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের দিতে হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মুধা।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে সংসদ সদস্যের দুজন করে প্রতিনিধি থাকেন। তারা তালিকা প্রণয়নে ইউনিয়ন পরিষদকে সহযোগিতা করেন। এখানে কোনো ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা বা মালামাল আত্মসাতের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ভিজিএফ কার্ড কোটার ভিত্তিতে বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যেই এই সহায়তা দেওয়ার নিয়ম। রাজনৈতিক দলের ৪০ শতাংশ ভাগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পাওয়া গেছে, এখানে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর নির্দেশ দাবি করলেও, এটা মহম্মদপুর উপজেলায় ক্ষ্যাত (শালা দুলাভাই সিন্ডিকেট) এটা করেছেন বলে জানা য়ায়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নিতাই রায় চৌধুরী  এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শুধু তাই নয়, মন্ত্রী মহোদয় এর ঘনিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে এ ধরনের অপ কর্মকাণ্ড একদমই মেনে নিতে পারেন নি, ফলে খুব শীঘ্রই এসব অপতৎপরতার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও মন্ত্রী মহোদয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

মহম্মদপুরে ভিজিএফের চালে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ৪০% রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ

মহম্মদপুরে ভিজিএফের চালে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ৪০% রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১০:০২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালে ৪০ শতাংশ রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ উঠেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেট।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, এভাবেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জন্য  ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।  বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৪৩ হাজার ৫৬৩ জন হতদরিদ্র, গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ৪৩৫ দশমিক ৩৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তালিকা করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে ভিজিএফ কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা অনেকটাই গোপনে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রকাশ্যেই ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠছে। এতে করে প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা বিএনপির নেতাদের চাপের মুখে প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের দিতে হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মুধা।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে সংসদ সদস্যের দুজন করে প্রতিনিধি থাকেন। তারা তালিকা প্রণয়নে ইউনিয়ন পরিষদকে সহযোগিতা করেন। এখানে কোনো ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা বা মালামাল আত্মসাতের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ভিজিএফ কার্ড কোটার ভিত্তিতে বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যেই এই সহায়তা দেওয়ার নিয়ম। রাজনৈতিক দলের ৪০ শতাংশ ভাগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পাওয়া গেছে, এখানে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর নির্দেশ দাবি করলেও, এটা মহম্মদপুর উপজেলায় ক্ষ্যাত (শালা দুলাভাই সিন্ডিকেট) এটা করেছেন বলে জানা য়ায়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নিতাই রায় চৌধুরী  এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শুধু তাই নয়, মন্ত্রী মহোদয় এর ঘনিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে এ ধরনের অপ কর্মকাণ্ড একদমই মেনে নিতে পারেন নি, ফলে খুব শীঘ্রই এসব অপতৎপরতার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও মন্ত্রী মহোদয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।