০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বিলুপ্তির পথে রাজা গণেশের নিদর্শন সমুহ

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৬নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনা জেলার ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুটি নদসহ সকল নিদর্শনসমূহ সংরক্ষনের অভাবে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৭ কি.মি দূরত্বে ভাতুরিয়া রাজা গণেশের ঐতিহ্য ও নিদর্শনসমূহ। এখান থেকে মাত্র ১-২ কি.মি দূরত্বে ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া। তার শাসনকাল ছিল ১৪১৪ খ্রিঃ থেকে ১৪১৫ খ্রিঃ পর্যন্ত। পরবর্তীতে রাজা গণেশের পত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিন এর হস্তক্ষেপে ২৪ পরগনায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও সম্প্রাসারণ ঘটে। তার শাসন আমল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শত বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। অথচ এ সময়ের মধ্যে সরকারি ভাবে কখনই রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও নদের সংস্কার বা রক্ষানাবেক্ষনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু ইতিহাসের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্তবর্তীর এলাকায় এর অবস্থান হওয়ার কারণে এটি সরকারের দৃষ্টিতে পড়ছে না। প্রায় ৫০ একর জমিতে রয়েছে রাজা গণেশের বাড়ি, নদ ও পুকুর। কালের বিবর্তনে এখন তার বাড়ির ভিটারও অস্থিত্ব খুজে পাওয়া দূস্কর হয়ে পড়েছে। এখানে একটি বিশাল গড় রয়েছে। রাজা গণেশের বাড়ির দুপাশে দুটি নদ ছিল। এ নদের উৎপত্তি ছিল কুলিক নদী থেকে। সেগুলোও ভরাট হয়ে গেছে। এ নদ দুটি সংস্কার করে পূনরুজ্জীবিত করলে কৃষিখাতে ব্যাপক সাফল্য ঘটবে। গড়ের পাশে ত্বন্নীদিঘী নামারে ১০ একরে বিশাল পুকুর,পুকুরটির চতুর পার্শ্বে ৭৫ ফিট প্রস্ত বিশিষ্ট মাটির প্রাচির দ্বারা ঘেড়া ছিল। সংস্কারের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি থাকে না। এই পুকুরে চতুর পাশ্ব দিয়ে রাজার ঘোড়া দৌড়ের প্রশিক্ষন দিত বলে জানা গেছে। পুকুরের মধ্যে এক অংশে অলৌকিক একটি বিশাল শাল কাঠের খুটিঁ এখনও বিদ্যমান রয়েছে এর পিছনে রয়েছে অনেক অলৌকিক ঘটনার কল্প কাহিনী। পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার। মাজারের সংলন্ম বর্তমানে রয়েছে বিশাল এক কবরস্থান, সেই কবর স্থানের বর্তমান নামকরণ করা হয়েছে তন্নিদিঘী পারিবারিক কবরস্থান। কবরস্থানের পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৩শত গজ দূরে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার। কবরস্থানের পূর্বে রয়েছে প্রাচীনতম অজ্ঞাত নামা একটি কবর, কবরস্থানের দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে আরো একটি প্রাচীনতম কবর যা আজও বিরাজ মান। ১৯৯০ সালে ঐ পুকুর পাড়ে ৩৮টি পরিবারে নিয়ে একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে সরকার। এসময় থেকে উক্ত পুকুরটি তাদের দখলেই রয়েছে। রাজা গণেশের প্রাচীনতম ইতিহাস তার বাড়ি ও গড়সহ সব কিছুই রক্ষানাবেক্ষনের দায়িত্ব আমাদের এবং সরকারের। এখানে অনেক মহামূল্যবান সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু এসকল বিষয়ের দেখভালের কেউ না থাকায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। । তার নিদর্শনগুলোর সংরক্ষন করা দরকার। এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হতে পাড়ে এতে সরকারের রাজস্ব্য আয় বাড়বে।

জনপ্রিয়

চরের শীতে নোভেইডের মানবিক উষ্ণতা

বিলুপ্তির পথে রাজা গণেশের নিদর্শন সমুহ

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৬নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনা জেলার ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুটি নদসহ সকল নিদর্শনসমূহ সংরক্ষনের অভাবে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৭ কি.মি দূরত্বে ভাতুরিয়া রাজা গণেশের ঐতিহ্য ও নিদর্শনসমূহ। এখান থেকে মাত্র ১-২ কি.মি দূরত্বে ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া। তার শাসনকাল ছিল ১৪১৪ খ্রিঃ থেকে ১৪১৫ খ্রিঃ পর্যন্ত। পরবর্তীতে রাজা গণেশের পত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিন এর হস্তক্ষেপে ২৪ পরগনায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও সম্প্রাসারণ ঘটে। তার শাসন আমল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শত বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। অথচ এ সময়ের মধ্যে সরকারি ভাবে কখনই রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও নদের সংস্কার বা রক্ষানাবেক্ষনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু ইতিহাসের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্তবর্তীর এলাকায় এর অবস্থান হওয়ার কারণে এটি সরকারের দৃষ্টিতে পড়ছে না। প্রায় ৫০ একর জমিতে রয়েছে রাজা গণেশের বাড়ি, নদ ও পুকুর। কালের বিবর্তনে এখন তার বাড়ির ভিটারও অস্থিত্ব খুজে পাওয়া দূস্কর হয়ে পড়েছে। এখানে একটি বিশাল গড় রয়েছে। রাজা গণেশের বাড়ির দুপাশে দুটি নদ ছিল। এ নদের উৎপত্তি ছিল কুলিক নদী থেকে। সেগুলোও ভরাট হয়ে গেছে। এ নদ দুটি সংস্কার করে পূনরুজ্জীবিত করলে কৃষিখাতে ব্যাপক সাফল্য ঘটবে। গড়ের পাশে ত্বন্নীদিঘী নামারে ১০ একরে বিশাল পুকুর,পুকুরটির চতুর পার্শ্বে ৭৫ ফিট প্রস্ত বিশিষ্ট মাটির প্রাচির দ্বারা ঘেড়া ছিল। সংস্কারের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি থাকে না। এই পুকুরে চতুর পাশ্ব দিয়ে রাজার ঘোড়া দৌড়ের প্রশিক্ষন দিত বলে জানা গেছে। পুকুরের মধ্যে এক অংশে অলৌকিক একটি বিশাল শাল কাঠের খুটিঁ এখনও বিদ্যমান রয়েছে এর পিছনে রয়েছে অনেক অলৌকিক ঘটনার কল্প কাহিনী। পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার। মাজারের সংলন্ম বর্তমানে রয়েছে বিশাল এক কবরস্থান, সেই কবর স্থানের বর্তমান নামকরণ করা হয়েছে তন্নিদিঘী পারিবারিক কবরস্থান। কবরস্থানের পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৩শত গজ দূরে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার। কবরস্থানের পূর্বে রয়েছে প্রাচীনতম অজ্ঞাত নামা একটি কবর, কবরস্থানের দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে আরো একটি প্রাচীনতম কবর যা আজও বিরাজ মান। ১৯৯০ সালে ঐ পুকুর পাড়ে ৩৮টি পরিবারে নিয়ে একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে সরকার। এসময় থেকে উক্ত পুকুরটি তাদের দখলেই রয়েছে। রাজা গণেশের প্রাচীনতম ইতিহাস তার বাড়ি ও গড়সহ সব কিছুই রক্ষানাবেক্ষনের দায়িত্ব আমাদের এবং সরকারের। এখানে অনেক মহামূল্যবান সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু এসকল বিষয়ের দেখভালের কেউ না থাকায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। । তার নিদর্শনগুলোর সংরক্ষন করা দরকার। এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হতে পাড়ে এতে সরকারের রাজস্ব্য আয় বাড়বে।