০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় বাবা ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন

নেত্রকোনার একজন ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্যাজ্য ঘোষণার শিকার হয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটনের সঙ্গে তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেকের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তার বাবা। ঘটনার পর বুধবার ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই নোটারির ছবি শেয়ার করে বিস্তারিত পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ত্যাজ্য ঘোষণায় আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ সমর্থক। কিন্তু ছোটন তার কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। এ রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তিক্ত হয়ে ওঠে।

বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে অসদাচরণই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব মতাদর্শে চলার অধিকার থাকলেও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না।

ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বছর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে অবশেষে তা প্রকাশের মুখে এসেছে। ক্লান্তির প্রকাশ থাকলেও, ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা চলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। পোস্টে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পদক্ষেপকে সাহসী ও ন্যায্য বলে অভিহিত করছেন এবং কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন। নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মহম্মদপুরে ভিজিএফের চালে শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ৪০% রাজনৈতিক ভাগের অভিযোগ

ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় বাবা ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন

প্রকাশের সময় : ০৩:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোনার একজন ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্যাজ্য ঘোষণার শিকার হয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটনের সঙ্গে তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেকের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তার বাবা। ঘটনার পর বুধবার ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই নোটারির ছবি শেয়ার করে বিস্তারিত পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ত্যাজ্য ঘোষণায় আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ সমর্থক। কিন্তু ছোটন তার কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। এ রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তিক্ত হয়ে ওঠে।

বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে অসদাচরণই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব মতাদর্শে চলার অধিকার থাকলেও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না।

ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বছর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে অবশেষে তা প্রকাশের মুখে এসেছে। ক্লান্তির প্রকাশ থাকলেও, ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা চলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। পোস্টে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পদক্ষেপকে সাহসী ও ন্যায্য বলে অভিহিত করছেন এবং কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন। নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।