০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা

  • এবিএন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 43

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে আছে স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, গতবারের চেয়ে তুলনামূলক কম সময়ে তিন মাস ২৭ দিন পর খোলা হয়েছে দান সিন্দুক। এরপর মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।

এদিন সকাল ৭টায় সিন্দুক খোলার সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট চার মাস ১৮ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। টাকা ছাড়াও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা।

টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট দানের টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে নগদ হিসেবে ১০৪ কোটি টাকার বেশি জমা আছে। পাশাপাশি অনলাইনে দান করা আরও ১২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আছে। আজ গণনা শেষে এসব টাকাও ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। দান করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে। সময় ও সুযোগ বুঝে এগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মূল তহবিলে যুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, পাগলা মসজিদের জমাকৃত অর্থ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

দান সিন্দুক খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গণনার দিন ছাড়াও সারা বছর দান সিন্দুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ নিয়মিত এখানে দান করতে আসেন। টাকাপয়সার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ নানা ধরনের জিনিসও দান করা হয়।

 

অমর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ

পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে আছে স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, গতবারের চেয়ে তুলনামূলক কম সময়ে তিন মাস ২৭ দিন পর খোলা হয়েছে দান সিন্দুক। এরপর মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।

এদিন সকাল ৭টায় সিন্দুক খোলার সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট চার মাস ১৮ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। টাকা ছাড়াও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা।

টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট দানের টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে নগদ হিসেবে ১০৪ কোটি টাকার বেশি জমা আছে। পাশাপাশি অনলাইনে দান করা আরও ১২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আছে। আজ গণনা শেষে এসব টাকাও ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। দান করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে। সময় ও সুযোগ বুঝে এগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মূল তহবিলে যুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, পাগলা মসজিদের জমাকৃত অর্থ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

দান সিন্দুক খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গণনার দিন ছাড়াও সারা বছর দান সিন্দুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ নিয়মিত এখানে দান করতে আসেন। টাকাপয়সার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ নানা ধরনের জিনিসও দান করা হয়।