লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দিঘলটারী ও গংগারহাট বিওপির ০২টি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ ০১ জন আটক এবং ইয়াবা ট্রাবলেট জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ০৮:৩০ মিনিটে দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন পূর্ব দিঘলটারী (থানা-আদিতমারী, জেলাঃ লালমনিরহাট) নামক স্থানে বিজিবি’র টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি টহলদল চ্যালেঞ্জ করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে: নাম- সেলিম রহমান শাহিন (৪৫), পিতা- মৃত: তোফাজ্জল হোসেন, গ্রাম- তালুক খুটামারা বালাটারী, থানা ও জেলা- লালমনিরহাটকে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ১০০পিছ এবং গাঁজা ১০০গ্রামসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, একই দিন রাত ০৭:০০ মিনিটে গংগারহাট বিওপি’র আওতাধীন চান্দের বাজার (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে টহল পরিচালনাকালীন চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে তল্লাশী করে ভারতীয় কিং ফিসার বিয়ার ০২ বোতল এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ১৩৬০পিছ জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ১০০ পিছ, যার সিজার মূল্য ১০,০০০/-টাকা, গাঁজা ১০০ গ্রাম, যার সিজার মূল্য ৩৫০/- টাকা এবং ভারতীয় বিয়ার ০২ বোতল, যার সিজার মূল্য ৫০০/- ও ইয়াবা ট্যাবলেট ১৩৬০পিছ, যার সিজার মূল্য ৪,০৮,০০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মুল্য ৪,১৮,৮৫০/- (চার লক্ষ আঠারো হাজার আটশত পঞ্চাশ টাকা)। উল্লেখিত ঘটনায় আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক মাদকদ্রব্যসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, স্টাফ রিপোর্টার 













