টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ৬নং সল্লা ইউনিয়নের সল্লা খামারপাড়া গ্রামের ৬০ বছর বয়সী শাহাজান আলী খান চিকিৎসা ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দুই বছর ধরে পায়ের জটিল রোগে ভুগে সম্প্রতি তাঁর ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে “বেলাট” ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর থেকে পরিবারটি মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। ছেলে সন্তান না থাকায় সংসারের দায়িত্বও আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ঘটনার শুরু ২০২৩ সালে, যখন শাহাজান আলী ধানক্ষেতে কাজ করতে যান। কাজ করার সময় তিনি ডান পায়ের ছোট আঙুলে একটি ছোট গোঁটা দেখেন। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র ব্যথা। স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধ খাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গোঁটা ফেটে পায়ে বড় ঘা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের আমিনা ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর ডান পা অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়।
অপারেশনের পর থেকে শাহাজান আলী সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পরিবার জানায়, তিনি এখন দুইটি লাঠির সাহায্যে অতি কষ্টে হাঁটতে পারেন। আগের মতো কাজ করতে পারেন না, ফলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শাহাজান আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজাহার আলীর কাছে বারবার সহযোগিতা চাইলে তিনি কোনো সহায়তা না করে জানান—“তার জন্য কোনও বরাদ্দ নেই।”
চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তাঁদের বড় ঘর ভেঙে এখন ছোট একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করতে হচ্ছে।সরকারের কাছে সাহায্য সহযোগীতা চেয়েছেন পরিবারটি ।
এবিএন ডেস্ক 









